১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেটের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই ঐতিহাসিক অর্জনের আজ ২৯ বছর পূর্ণ হলো।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিনটির নাম ১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল। মালয়েশিয়ার কিলাত কেলাব ক্লাব মাঠে কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জিতেছিল আকরাম খানের দল। সেই এক জয়েই নিশ্চিত হয়েছিল বিশ্বকাপের টিকিট, খুলে গিয়েছিল টেস্ট মর্যাদার পথ। রূপকথার মতো সেই অর্জনের আজ ২৯ বছর পূর্ণ হলো।
রুদ্ধশ্বাস সেই ফাইনাল ও বৃষ্টির বাগড়া
১২ এপ্রিল ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে তা গড়ায় রিজার্ভ ডে অর্থাৎ ১৩ এপ্রিলে। প্রথমে ব্যাট করে কেনিয়া নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৪১ রান সংগ্রহ করে। বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৫ ওভারে ১৬৬ রান। রুদ্ধশ্বাস সেই ম্যাচে শেষ বলে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় লাল-সবুজ বাহিনী। খালেদ মাসুদ পাইলট ও হাসিবুল হোসেন শান্তর বীরত্বে ২ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ।
মাঠ শুকাতে শামিল হয়েছিলেন হুমায়ুন ফরীদিও
সেদিন মাঠ খেলার উপযোগী করতে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সমর্থক ও কর্মকর্তারাও। তোয়ালে, ঝাড়ু, বালতি এমনকি বেলচা দিয়ে পানি সরানোর কাজে অংশ নেন তৎকালীন বোর্ড সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে এসেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিও। সবার সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।
বিজয়ের পরবর্তী অধ্যায় ও বর্তমান ট্রফি
শিরোপা জয়ের পর পুরো দেশ উৎসবে মেতে ওঠে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেন। দলের তৎকালীন কোচ গর্ডন গ্রিনিজকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব। মজার বিষয় হলো, সেই মূল ট্রফিটি বর্তমানে আইসিসির দুবাই কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে, আর মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শোভা পাচ্ছে আইসিসি প্রদত্ত সেই ট্রফির একটি সুদৃশ্য রেপ্লিকা।
৯ বছর আগের সেই জয় কেবল একটি শিরোপা ছিল না, সেটি ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার ভিত্তিপ্রস্তর। সেই সাফল্যের হাত ধরেই আজ টাইগাররা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে।

