ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের ফলে সৃষ্ট চীনের জ্বালানি সংকট কাটাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া। লাভরভ জানিয়েছেন, বন্ধুত্বের খাতিরে বেইজিংয়ের সব ধরনের জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করবে মস্কো।
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের ফলে চীনে যে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে রাশিয়া। বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, চীনসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্বালানি চাহিদা পূরণে রাশিয়া সর্বদা প্রস্তুত।
রাশিয়ার সহযোগিতার আশ্বাস
সের্গেই লাভরভ সাংবাদিকদের বলেন, “রাশিয়া অবশ্যই উদ্ভূত সম্পদের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম। চীনসহ যেসব দেশ আমাদের সাথে পারস্পরিক লাভজনক উপায়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সব ধরনের জ্বালানি সহায়তা প্রদান করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও রাশিয়া ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ‘অটুট’ রয়েছে। মূলত প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতাই এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থান ও চীনের সংকট
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করায় চীনের জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। চীন বিশ্বের মধ্যে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ায় এই অবরোধ বেইজিংয়ের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল যে, চলমান অবরোধের মধ্যে বেইজিংকে কোনোভাবেই ইরানি তেল কিনতে দেওয়া হবে না।
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার এই প্রস্তাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাশিয়া ও চীনের এই জোটবদ্ধ হওয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত যখন চরম সীমায় পৌঁছেছে, তখন রাশিয়ার এই ঘোষণা বেইজিংয়ের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ এখন সরাসরি এশিয়া ও ইউরোপের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

