মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৪টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজের সঙ্গে বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও সংঘাত নিরসনে চার দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে চীন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল, ২০২৬) বেইজিংয়ে আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা আনার আহ্বান জানান তিনি।
শি জিনপিংয়ের চার দফা শান্তি পরিকল্পনা
চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত চার দফা পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো— ১. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা ও একটি স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠন। ২. প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন। ৩. আন্তর্জাতিক আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। ৪. উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা।
আন্তর্জাতিক আইনের অপব্যবহার নিয়ে সমালোচনা
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকে ‘সুবিধামতো ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ছুড়ে ফেলা’—এমন দ্বিমুখী নীতি আর চলবে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিশ্বকে আমরা পুনরায় ‘জঙ্গলের আইন’-এ ফিরে যেতে দিতে পারি না। চীনের প্রেসিডেন্ট এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করলেন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত প্রশমনে আয়োজিত আলোচনাগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি চীনের জ্বালানি আমদানিতে পড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার ফলে মার্চ মাসে চীনের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এছাড়া অপরিশোধিত তেলের আমদানিও প্রায় ২.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেইজিং ও আবুধাবি তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে একমত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজের এই সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

