সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানি থেকে নারীদের সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাইবার বুলিং মোকাবিলায় একটি বিশেষ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এই সেলটি কাজ করবে। বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই ঘোষণা দেন।
আইনি সংস্কার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বর্তমান সরকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করার পাশাপাশি সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মামলার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অনলাইন অপরাধের বিচার আরও নিখুঁত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক হয়রানি দমনে কঠোরতা
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে অনেক নারী কেবল রাজনৈতিক মত প্রকাশের কারণে নয়, বরং তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অনলাইনে নানা ধরনের কুৎসা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই ধরনের নোংরা প্রবণতা বন্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই বিশেষ সেলটি সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নারীদের জন্য একটি নিরাপদ সাইবার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করবে।
সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ সেলটি গঠিত হলে অনলাইন হয়রানি দমনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ হবে। এর ফলে সাইবার অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশে নারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগটি একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ দমনে সরকারের এই কঠোর অবস্থান জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

