হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই জানিয়েছেন, সেখানে ‘পুলিশি’ ভূমিকা পালন করতে চাইলে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণকৌশলগত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল, ২০২৬) এক বক্তব্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি সেখানে ‘পুলিশের’ মতো খবরদারি করতে চায়, তবে মার্কিন জাহাজগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবিয়ে দেওয়া হবে। মূলত হরমুজে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর বার্তা দিল তেহরান।
উত্তেজনার মূলে মার্কিন নৌ-অবরোধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা চরমে। ওই হামলার প্রতিবাদে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালি এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে এই রুটে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
‘ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম আঘাতেই ডুববে জাহাজ’
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহসিন রেজাই সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেন। মার্কিন রণতরীগুলোর নজরদারির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, হরমুজে পুলিশের ভূমিকা পালন করা কি কোনো শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর কাজ? রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) জাহাজগুলো আমাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই তলিয়ে যেতে পারে।”
কে এই মোহসিন রেজাই?
মোহসিন রেজাই ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ অবসর কাটিয়ে সম্প্রতি তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তার এই কঠোর মন্তব্যকে ইরানের চূড়ান্ত সামরিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের এই সরাসরি সামরিক হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নৌ-পথে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই দড়িটানাটানি বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

