মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল, ২০২৬) ‘ইরানের নিবেদিতপ্রাণ কন্যারা’ নামক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই র্যালিতে অংশ নেন হাজার হাজার নারী ও তরুণী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর থেকে দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই এমন সরকারপন্থি বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে।
হাতে অস্ত্র ও মুখে আগ্রাসনবিরোধী স্লোগান
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীদের হাতে বন্দুক এবং জাতীয় পতাকা দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধের শপথ নিচ্ছেন। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় তারা সর্বদা প্রস্তুত।
আলোচনার শর্ত ও সাধারণের ক্ষোভ
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জোহরা ইলখান নামের এক নারী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা কোনো হামলা বা হুমকিকে ভয় পাই না। শত্রুপক্ষ যদি আমাদের শর্ত মেনে মাথা নত করে তবেই কেবল আলোচনার টেবিলে বসা সম্ভব। প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা আমাদের বর্তমান নেতৃত্বের নির্দেশ পালন করব।” এই বিক্ষোভ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন দুই দেশের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার গুঞ্জন চলছে, তবে রাজপথের এই উত্তাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানিদের মধ্যে এখনো চরম ক্ষোভ বিরাজমান।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার উদ্বেগ
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বিশাল সমাবেশগুলো মূলত রাষ্ট্রের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হয়। একদিকে সরকারপন্থিরা রাজপথ দখল করে রাখলেও অন্যদিকে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’-এর তথ্যমতে, গত জানুয়ারি মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে খামেনির মৃত্যুর পর ইরান এখন এক অস্থির সময় পার করছে।
একদিকে বহির্বিশ্বের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা, অন্যদিকে দেশের ভেতরের চরম রাজনৈতিক মেরুকরণ—পারস্য উপসাগরের এই দেশটির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, তা এখন দেখার বিষয়।

