ভালোবাসার মানুষের অবহেলা সইতে না পেরে ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক যুবককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকার বিরুদ্ধে। ‘সারপ্রাইজ’ দেওয়ার অযুহাতে যুবককে চেয়ারে বেঁধে এই নৃশংসতা চালানো হয়।
ভালোবাসার বদলে প্রতিহিংসা। সম্পর্কের টানাপোড়েন আর অবহেলার অভিযোগে ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক যুবককে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল, ২০২৬) বেঙ্গালুরুর অঞ্জনাপুরায় এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত তরুণী তার প্রেমিককে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার নাম করে ঘরে ডেকে এনে হাত-পা ও চোখ বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
অবহেলার অভিযোগ ও পূর্বপরিকল্পনা
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী যুবক কিরণ এবং অভিযুক্ত তরুণী প্রেরণা একটি টেলিকম দোকানে একসঙ্গে চাকরি করতেন। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি প্রেরণা মনে করছিলেন যে কিরণ তাকে এড়িয়ে চলছেন এবং তাকে বিয়ে করবেন না। এই ‘অবহেলা’ থেকেই তার মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে।
‘বিদেশি স্টাইল’ ও নৃশংস ফাঁদ
মঙ্গলবার প্রেরণার বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সুযোগে তিনি কিরণকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রেরণা কিরণকে একটি বিশেষ উপায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেন, যা বর্তমানে বিদেশে জনপ্রিয়। কিরণ এতে রাজি হলে তার চোখ বেঁধে এবং একটি চেয়ারের সঙ্গে শক্ত করে আটকে দেওয়া হয়। কিরণ প্রথমে আপত্তি জানালেও প্রেরণা তাকে ‘সারপ্রাইজ’ দেওয়ার কথা বলে আশ্বস্ত করেন।
ভিডিও ধারণ ও পুলিশের তৎপরতা
হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় কিরণ যখন প্রেমিকার প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখনই প্রেরণা তার গায়ে দাহ্য তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, পুরো অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাটি প্রেরণা নিজের ফোনে ভিডিও করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
বেঙ্গালুরুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ডিএল নাগেশ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তরুণীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভালোবাসার সম্পর্কে এমন ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামাজিক ও মানসিক অস্থিরতার প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

