ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজায় এক টুকরো আনন্দের ঝিলিক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় ৩০০ যুগলের গণবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে মধ্য গাজায়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ফুটেছে আনন্দের হাসি। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার মধ্যেই গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) মধ্য গাজায় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৩০০ যুগলের গণবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষ মানবিক কর্মসূচির আওতায় এই বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২০ হাজার মানুষের মিলনমেলা
বিয়ের এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি হয়ে উঠেছিল গাজাবাসীর জন্য এক বড় মিলনমেলা। ‘গালফ নিউজ’-এর তথ্যমতে, নবদম্পতিদের পরিবার, স্থানীয় নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে সমবেত হন। যুদ্ধের বিভীষিকা ভুলে কিছুক্ষণের জন্য উৎসবে মেতে ওঠে পুরো এলাকা।
আরব আমিরাতের ‘গালান্ত নাইট ৩’ উদ্যোগ
এই মহতী উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়েছে আরব আমিরাতের ‘গালান্ত নাইট ৩’ (Gallant Knight 3) প্রোগ্রামের আওতায়। মূলত গাজার যেসব তরুণ-তরুণী আর্থিক অনটনের কারণে বিয়ের খরচ জোগাতে পারছিলেন না, তাদের জন্যই এই ব্যবস্থা। জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে সবচেয়ে অস্বচ্ছল ও এতিম ৩০০ যুগলকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।
ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের ছাপ
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। নবদম্পতিদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সাজানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিন ও আরব আমিরাতের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। বিয়ে সম্পন্ন করার পাশাপাশি আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক দম্পতিকে মূল্যবান উপহার এবং সংসার শুরুর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও জীবনের জয়গান গাইতে জানে ফিলিস্তিনিরা। এই গণবিবাহ গাজাবাসীর অদম্য মনোবল এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

