ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ৬ মাস কমালো সরকার

প্রাক্তন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি আর এই বিশেষ সুবিধা পাবেন না।

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য বরাদ্দকৃত ‘ভিভিআইপি’ (ভেরি ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসন) মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি আর এই বিশেষ মর্যাদা ও প্রটোকল সুবিধা পাবেন না। এরপর থেকে তিনি সাধারণ নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করবেন।

প্রজ্ঞাপন ও নতুন সিদ্ধান্ত

গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা ও ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের আওতায় আগে দেওয়া এই সুবিধাটি পুনর্বিবেচনা করে তা ছয় মাস কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। ফলে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্তই তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল সুবিধা ভোগ করবেন।

যে সব সুবিধা পাচ্ছেন ড. ইউনূস

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া ড. ইউনূস প্রায় ১৮ মাস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন শেষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ত্যাগ করেন। বর্তমানে ভিভিআইপি হিসেবে তিনি এসএসএফ-এর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পাচ্ছেন। তার বাসভবন ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা তল্লাশিসহ দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর বিশেষ প্রটোকল সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ১০ আগস্টের পর এই নিরাপত্তা বলয় তুলে নেওয়া হবে।

প্রেক্ষাপট ও গেজেট বিতর্ক

উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট জারি করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা সেই প্রজ্ঞাপনে এক বছরের কথা উল্লেখ থাকলেও সেটি সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। বর্তমান সরকার সেই সিদ্ধান্তের সময়সীমা সংশোধন করে ছয় মাসে নামিয়ে এনেছে।

আগামী ১০ আগস্টের পর ড. ইউনূসের নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই তিনি চলাফেরা করবেন এবং তার জন্য মোতায়েন করা এসএসএফ সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *