নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই দেশে ফিরতে প্রস্তুত সাকিব আল হাসান। মুম্বাইয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের আইনি লড়াই ও ফেরা নিয়ে মুখ খুললেন এই অলরাউন্ডার।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অবশেষে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রোববার (৩ মে, ২০২৬) ভারতের মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যথাযথ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে আগামী দুই দিনের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে পা রাখবেন। নিজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো আইনিভাবে মোকাবিলা করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইনি লড়াই ও নিরাপত্তার শর্ত
মুম্বাইয়ে ‘ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম’ লিগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাকিব তার বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “আমি দেশে ফিরবো এবং আদালতে গিয়ে প্রতিটি মামলা লড়বো। তবে আমার জন্য স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।” সাকিব স্পষ্ট করেন যে তিনি ভিভিআইপি নিরাপত্তা চান না, বরং আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন যেন তাকে অযথা হয়রানি করা না হয়, সেই নিশ্চয়তাটুকুই তার দাবি।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক জটিলতা
সাক্ষাৎকারে সাকিব তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় তিনি সাধারণ কিছু আইনি বিষয় বা ‘চেক বাউন্স’-এর মতো ছোটখাটো মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে পারছেন না। গত দেড় বছর ধরে চলা বিভিন্ন তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের অনিয়ম খুঁজে পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের সেই দুবাই যাত্রা
সাবেক এই সংসদ সদস্য ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসেও দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তৎকালীন কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পেয়েই তিনি বিমানে উঠেছিলেন। কিন্তু দুবাই পৌঁছানোর পর তাকে ফোন করে দেশে না ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সেবার দুবাই থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
সাকিব আল হাসানের এই মন্তব্যের পর দেশের ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিসিবি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাকিবের এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

