শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা মানেই আত্মসমর্পণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করবে না তেহরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তার দেশ কখনোই কোনো শত্রুর সামনে মাথা নত করবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে রোববার (১০ মে, ২০২৬) এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার প্রস্তাব মানেই পিছু হটা বা আত্মসমর্পণ নয়; বরং এটি জাতীয় অধিকার আদায় ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি কৌশল।

জাতীয় স্বার্থ ও আলোচনার লক্ষ্য

পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সংলাপের উদ্দেশ্য হলো ইরানি জনগণের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “ইরান কখনো তার বৈধ অধিকার থেকে এক পা-ও সরে আসবে না।” ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো আলোচনার মূল ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান এবং ইরানের জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা। আলোচনাকে যারা দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন, তাদের ভুল ভাঙতেই এই কড়া বার্তা দেন তিনি।

তেহরানের জবাব ও ওয়াশিংটনের অসন্তোষ

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনা কেবল ‘যুদ্ধ বন্ধের’ বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। পারমাণবিক কর্মসূচি বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের মতো বিতর্কিত ইস্যুগুলো আপাতত আলোচনার বাইরে রাখতে চায় তেহরান।

তবে তেহরানের এই জবাবে সন্তুষ্ট নয় হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো মানতে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তেহরান গত পাঁচ দশক ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কেবল ‘সময়ক্ষেপণের কৌশল’ অবলম্বন করছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কোনো সমাধান তেহরান দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বিপরীতমুখী অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানের পথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরান যখন যুদ্ধ বন্ধকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যুতেই অনড়। এই অচলাবস্থা জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *