কিউবার ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯৬২ সালের পর ফের বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কায় ক্যারিবীয় অঞ্চল।
ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার ওপর যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্য ও পদক্ষেপ থেকে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’ জানিয়েছে, কিউবা সরকারের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি করছেন ট্রাম্প, যা শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযানে রূপ নিতে পারে।
চাপের মুখে কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি
গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার অভ্যন্তরীণ অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। এর ওপর চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার পর কিউবা আরও বড় সংকটে পড়েছে। মূলত ভেনেজুয়েলা থেকেই কিউবা তাদের প্রয়োজনীয় তেলের সিংহভাগ পেত। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি গত সপ্তাহ থেকে কিউবার ওপর নজরদারি বিমান পরিচালনা কয়েকগুণ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
১৯৬২ সালের পর বড় সংঘাতের শঙ্কা
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল মোতায়েন করার জেরে ১৯৬২ সালে দেশ দুটির মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। ট্রাম্প যদি এখন কিউবায় হামলা চালান, তবে সেটি হবে গত ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরাসরি সংঘাত। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন এই পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষের ওপর ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে সামগ্রিক শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের কৌশল ও ভিন্নমত
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন যে কিউবায় হামলার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তবে ট্রাম্পের প্রকাশ্য অবস্থান ভিন্ন কথা বলছে। গত শুক্রবার তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফেরা একটি রণতরীকে কিউবার কাছে মোতায়েন করা হতে পারে। ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, এই রণতরী মোতায়েনের মাধ্যমেই কিউবাকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে কিউবার বিষয়টি কিছুটা আড়ালে পড়লেও এখন তা নতুন করে সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন কি কেবল রণতরী দেখিয়ে কিউবাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, নাকি সরাসরি সামরিক অভিযানে যাবে—তা এখন বিশ্বরাজনীতির বড় প্রশ্ন।

