নাহিদ রানার গতির ঝড়, মিরপুরে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের সুবাদে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতির জাদু দেখালেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৫ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ১৬৩ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

প্রথম ইনিংসের দাপট ও শান্তর সেঞ্চুরি

গত শুক্রবার টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর লড়াকু ১০১ রানের পাশাপাশি মুমিনুল হকের ৯১ ও মুশফিকুর রহিমের ৭১ রান বড় সংগ্রহে সাহায্য করে। জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে ৩৬৮ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ ৫টি উইকেট শিকার করেন। ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে টাইগাররা।

দ্বিতীয় ইনিংস ও লক্ষ্য নির্ধারণ

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্ত (৮৬) এবং মুমিনুল হক সৌরভের (৫৬) হাফ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান। মিরপুরের ঘূর্ণি ও গতির উইকেটে এই রান তাড়া করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বাবর আজমদের জন্য।

নাহিদ রানা ম্যাজিক ও পাকিস্তানের বিপর্যয়

শেষ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৫২ রান, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট। মধ্যাহ্নভোজের পর থেকেই নিজের গতির ছড়ি ঘোরাতে থাকেন নাহিদ রানা। একে একে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। নাহিদ রানা একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট। এছাড়া তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তাসকিন ও তাইজুল।

আগামী ১৬ মে সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *