নোয়াখালীর এক দম্পতি একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকদের বাঁচাতে এনআইসিইউতে চলছে মাসব্যাপী লড়াই, পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার মোস্তাকিম হোসেন ও সামরিনা আক্তার দম্পতির জীবনে এসেছে এক অনন্য আশীর্বাদ। গত ১১ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন সামরিনা। বর্তমানে নবজাতকেরা ঢাকা মেডিকেল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা ও অদম্য ইচ্ছা
বিবাহিত জীবনের দুই বছরের মাথায় প্রথম সন্তান হিসেবে একসঙ্গে পাঁচটি সন্তানের আগমনের খবরে শুরুতে দম্পতিটি বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। চিকিৎসকেরা গর্ভাবস্থার ঝুঁকি বিবেচনায় গর্ভপাতের পরামর্শ দিলেও, সামরিনা ও মোস্তাকিম তাঁদের সন্তানদের পৃথিবীর আলো দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। গর্ভাবস্থায় সামরিনাকে প্রচণ্ড শারীরিক ধকল ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ৩০ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই জটিলতার কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়।
নবজাতকদের বর্তমান অবস্থা ও ব্যয়
অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় নবজাতকগুলোর ওজন এক কেজির কাছাকাছি। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হওয়ার জন্য তাদের অন্তত মাসখানেক এনআইসিইউতে রাখতে হবে। সাধারণ পরিবার ও স্থায়ী চাকরি না থাকায় এই বিপুল চিকিৎসা ব্যয় জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা মোস্তাকিম। তিনি জানান, স্ত্রীর গর্ভাবস্থা থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে, যা জোগাড় করতে নিজের দোকানের পুঁজি ও ঋণ নিতে হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের দৈনিক ৫০ হাজার টাকার বিল তার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন ও সমাজসেবা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, একসঙ্গে এতগুলো শিশুর জন্ম বিরল। হাসপাতালের সীমিত সুযোগের মধ্যেই পরিবারটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা টিম শিশুগুলোর চিকিৎসায় সহায়তা প্রদান করছে।
পাঁচটি নতুন প্রাণের আগমন মোস্তাকিম ও সামরিনার পরিবারে যেমন আনন্দের জোয়ার নিয়ে এসেছে, তেমনি তাদের সুস্থ করে তোলা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিত্তবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো এই নবজাতকদের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

