ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ

রাজধানীর ৭ সরকারি কলেজ নিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একটি সমন্বিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আনতে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই বিশেষ অধ্যাদেশটি জারি করেন। এর ফলে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজসহ সাতটি প্রধান সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন থেকে এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে পরিচালিত হবে।

সাত কলেজ নিয়ে নতুন উচ্চশিক্ষা কাঠামো

নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ। অধ্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংযুক্ত কলেজগুলোর নিজস্ব নাম, ঐতিহ্য, বর্তমান অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা ও বিদ্যমান সকল সুযোগ-সুবিধা আগের মতোই বজায় থাকবে।

স্বায়ত্তশাসিত পরিচালনা ও প্রশাসনিক পদসমূহ

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ একটি পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। প্রশাসনিক কাজের জন্য উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো তৈরি করা হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে না তোলা পর্যন্ত সাময়িকভাবে ভাড়া করা ভবন বা উপযুক্ত কোনো স্থানে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ এবং শিক্ষা কার্যক্রম তদারকিতে ‘একাডেমিক কাউন্সিল’ কাজ করবে।

ইউজিসি-র তদারকি ও লক্ষ্য

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আর্থিক কার্যক্রমের তদারকি করবে। কমিশন প্রয়োজনে তদন্ত বা আকস্মিক পরিদর্শন করার ক্ষমতা রাখবে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ মার্চ ইউজিসি রাজধানীর এই সাতটি কলেজকে নিয়ে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের সুপারিশ করেছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় গত ১২ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *