রোহিঙ্গাদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ: জনস্বাস্থ্যবিদদের উদ্বেগ

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে শনাক্ত এইচআইভি রোগীদের ১১ শতাংশই রোহিঙ্গা। সংক্রমণের এই ক্রমবর্ধমান হার স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে নতুন করে শনাক্ত হওয়া এইচআইভি রোগীদের মধ্যে ১১ শতাংশই মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর মানুষ। গত দেড় দশকের মধ্যে সংক্রমণের এই বার্ষিক হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সংক্রমণের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস-এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৮৯১ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২১৭ জনই রোহিঙ্গা, যা মোট আক্রান্তের ১১ শতাংশ। গত দুই বছরের তুলনায় রোহিঙ্গা শিবিরে সংক্রমণের এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কেন বাড়ছে এই মরণব্যাধি?

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হকের মতে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার চরম অভাব এবং সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে অনীহাই এই সংক্রমণের মূল কারণ। যদিও পূর্বে সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের হার ৫ শতাংশ ছিল এবং বর্তমানে তা বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, তবুও তা সন্তোষজনক নয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সুবিধা কমে যাওয়াও এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম এবং জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, এই সংক্রমণ কেবল রোহিঙ্গা শিবিরের ভেতরে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক রোহিঙ্গা নিয়মিতভাবে শিবিরের বাইরে স্থানীয় মানুষের সংস্পর্শে আসছেন। ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও সরকারকে আরও সজাগ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোহিঙ্গাদের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কেবল ক্যাম্পের ভেতরে সীমাবদ্ধ না থেকে সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *