ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মিত্রদের প্রাধান্য নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন সবার নজর নতুন মন্ত্রিসভার দিকে। দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। নতুন এই সরকারে কারা থাকছেন এবং কোন মন্ত্রণালয় কার হাতে যাচ্ছে—তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ।
অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের মিশেল
বিএনপির দলীয় সূত্রমতে, এবারের মন্ত্রিসভায় বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক মেধাবী তরুণ মুখ দেখা যেতে পারে। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ নেতাকে এবার মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তারেক রহমানের।
মিত্র ও জোট নেতাদের অংশগ্রহণ
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের অংশ হিসেবে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদেরও দেখা যেতে পারে নতুন সরকারে। আলোচনায় আছেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ। এছাড়া মিত্র দল থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।
বিশেষায়িত খাতে নতুন মুখ
প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির আভাস পাওয়া গেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের ভাবা হচ্ছে। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং কৃষি-খাদ্য খাতের বড় উদ্যোক্তা আব্দুল আউয়াল মিন্টু মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ দল
সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, মূল মন্ত্রিসভা খুব বেশি বড় না করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে আরও শক্তিশালী করা হতে পারে। সেখানে একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষজ্ঞ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এই ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকে কাজ করা অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সফল উপদেষ্টাকেও যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বর্ষীয়ান নেতা নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।
একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশ। তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভা কেবল রাজনৈতিক ভাগাভাগি নয়, বরং একটি দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন কাঠামো তৈরির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

