বিমান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান পদ থেকে শেখ বশিরউদ্দিনের অব্যাহতি

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন শেখ বশিরউদ্দিন। মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে শেখ বশিরউদ্দিনকে অব্যাহতি প্রদান করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অব্যাহতির কারণ ও দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাকিলা পারভীন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, শেখ বশিরউদ্দিনকে তাঁর নিজস্ব অভিপ্রায় বা ব্যক্তিগত ইচ্ছানুসারেই এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মূলত তাঁর অনুরোধের প্রেক্ষিতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ‘বাংলাদেশ বিমান অর্ডার, ১৯৭২ (রহিত) পুনর্বহাল ও সংশোধন আইন, ২০২৩’-এর ৩০(গ) ধারার ক্ষমতাবলে সরকার তাঁকে এই পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

দ্বৈত ভূমিকা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপট

শেখ বশিরউদ্দিন গত বছরের এপ্রিল মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে ২৬ আগস্ট তাঁকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ওই সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছিলেন। তবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় থেকে নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা একটি বাণিজ্যিক সংস্থার চেয়ারম্যান পদে আসীন হওয়া নিয়ে তৎকালীন সময়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) এড়াতে এই নিয়োগ নিয়ে অনেকেই সরব ছিলেন।

প্রশাসনিক প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতির মাধ্যমে শেখ বশিরউদ্দিন এখন শুধুমাত্র তাঁর মন্ত্রণালয়ের মূল নীতি-নির্ধারণী কার্যে মনোনিবেশ করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিমান বাংলাদেশের শূন্য হওয়া এই শীর্ষ পদে নতুন কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে নতুন চেয়ারম্যানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিগত কয়েক মাস ধরে বিমানের বিভিন্ন অনিয়ম ও লোকসানি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার মধ্যে এই অব্যাহতি একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *