ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ ছাড়ছেন নিয়াজ আহমদ খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। আজ সকালে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবর এই আবেদনপত্র জমা দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর তথা রাষ্ট্রপতি বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিজের বিভাগে ফেরার ইচ্ছা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান আজ সকালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন এবং তাঁর মূল কর্মস্থল উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের ‘গ্রেড-১’ অধ্যাপক পদে ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। মূলত গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন, আজকের আবেদনটি তারই ধারাবাহিকতা।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক

পদত্যাগের আবেদনের আগে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নিয়াজ আহমদ খান। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিদায়ী উপাচার্যের মতামত জানতে চান। দেশের একটি ক্রান্তিলগ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল ধরায় অধ্যাপক নিয়াজ আহমদকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান শিক্ষামন্ত্রী।

দায়িত্ব পালনের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণে আগস্টের শেষ দিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন নিয়াজ আহমদ খান। ১০ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, “আমরা দায়িত্ব পালনের একটি ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং এখন আমি সরে দাঁড়াতে চাই।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে আগামীতেও কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি হলো। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাঁর এই অব্যাহতি কার্যকর হবে এবং পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *