ভয়াবহ হামলার মুখেও ইরানি শাসনব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়ার কোনো ঝুঁকি নেই বলে এক বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলার মুখেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এবং জনগণের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গত কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি গোপন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের সংহতি এখনো অটুট রয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের চাঞ্চল্যকর তথ্য
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একই ধরনের বিশ্লেষণ উঠে এসেছে যে, বর্তমানে ইরানের শাসনব্যবস্থা কোনো অস্তিত্ব সংকটে নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটবে—এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও মরণাস্ত্র মজুত
অন্যদিকে, ইরানের ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে বি-১ বোমারু বিমানগুলোকে ‘জেডিএএম’ (JDAM) নামক মরণাস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে। এই বোমারু বিমানগুলো মূলত ইরানের মাটির নিচে অবস্থিত সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাবে।
যুদ্ধের ব্যয় ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যেই ইরাকের বসরার একটি মার্কিন কোম্পানিতে ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বাহরাইনে বিমান হামলার সাইরেন এবং লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিহত ৬ মার্কিন সেনার মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে ইরানের স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। হোয়াইট হাউজ বা সিআইএ এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে হামলা ও পাল্টা হামলার এই ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

