বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতসহ প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে নতুন তদন্ত শুরু করেছে। এর ফলে বাড়তে পারে আমদানি শুল্ক।

যুক্তরাষ্ট্র তাদের বেশ কয়েকটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন করে ‘বাণিজ্য তদন্ত’ শুরু করেছে। এই তালিকায় চীন, ভারত ও জাপানের পাশাপাশি বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূলত গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত শুল্কনীতি সুপ্রিম কোর্টে অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই তদন্ত শুরু করল ওয়াশিংটন।

সেকশন ৩০১ ও নতুন শুল্কের ঝুঁকি

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো দেশের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা’র প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই দেশের পণ্যের ওপর বড় ধরনের আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। গ্রিয়ার আশা করছেন, আগামী জুলাইয়ে ট্রাম্পের বর্তমান অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত সম্পন্ন হবে। এর ফলে চলতি বছরের গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায় ও ট্রাম্পের ক্ষোভ

গত বছর এপ্রিলে ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ১০% থেকে ৫০% শুল্ক আরোপের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তাকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয় বরং কংগ্রেসের হাতে। ট্রাম্প এই রায়কে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেন এবং বিচারপতিদের তীব্র সমালোচনা করেন। রায়ের পরপরই তিনি নতুন করে ১০% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং তা ১৫% পর্যন্ত বাড়ানোর হুমকি দেন।

বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো রয়েছে। এর আগে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক কিছুটা কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ বাণিজ্য চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। যদিও হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, শুল্কের হার পরিবর্তন হলেও চুক্তির অন্যান্য শর্তগুলো বহাল থাকতে পারে।

আগামী প্যারিস সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা পরবর্তী বাণিজ্য যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন তদন্ত প্রক্রিয়া বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি খাতে বড় ধরণের চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *