ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ও আইআরজিসি কর্মকর্তাদের তথ্য দিলে ১ কোটি ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এই ঘোষণা দিল পেন্টাগন।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ডলার বা প্রায় ১১০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ প্রোগ্রামের আওতায় শুক্রবার (১৩ মার্চ, ২০২৬) এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
আইআরজিসি ও সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মোজতবা খামেনি ও তাঁর অনুগত আইআরজিসি কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সরাসরি জড়িত। এই ব্যক্তিরা ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালনা করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। আইআরজিসি-র অন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদানকারীকে আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
হামলার মুখে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস
এই পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এছাড়া ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আরও কঠোর ও শক্তিশালী আঘাত হানা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ২২০০ মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে যুক্তরাষ্ট্র।
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ও মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘নিঃশেষ’ করতে ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার বাড়িয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ। সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে আবারও ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শীর্ষ নেতার ওপর সরাসরি পুরস্কার ঘোষণা পরিস্থিতিকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ ‘বন্ধ’ হতে পারে, তবে তা কূটনৈতিক পথে নাকি সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।

