ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে পুকুর সংস্কারের সময় মাটির নিচে পাওয়া গেছে একাত্তরের এক তাজা মর্টার শেল। এলাকাটি বর্তমানে পুলিশি পাহারায় রয়েছে এবং সেনাবাহিনী এটি নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় একটি পুকুর খনন করতে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের একটি তাজা মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শেলটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর আগে গত রবিবার দুপুরে উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের বড় হরণ গ্রামে মাটিকাটা শ্রমিকরা এটি খুঁজে পান।
যেভাবে উদ্ধার হলো মর্টার শেলটি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড় হরণ গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল বারীর বাড়িতে প্রায় ৪০ বছর পর একটি পুকুর পুনরায় খনন ও সংস্কারের কাজ চলছিল। রবিবার দুপুরে শ্রমিকরা কোদাল দিয়ে মাটি কাটার সময় শক্ত কিছুর অস্তিত্ব টের পান। পরে সাবধানে মাটি সরালে একটি মর্টার শেল বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানালে তাঁর ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনমনে আতঙ্ক
বাড়ির মালিক এমদাদুল বারী জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁদের এই পরিত্যক্ত বাড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি ক্যাম্প ছিল। সেই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধে এখানে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের সময় এই মর্টার শেলটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় মাটির নিচে থেকে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এটি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তুতি
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি দড়ির বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করে দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এএসআই হাসমত আলী জানান, সেনাবাহিনীর একটি দল প্রাথমিক পরিদর্শন শেষ করেছে। কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর আর্টিলারি শেল ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এসে বিশেষজ্ঞ পদ্ধতিতে এটি নিষ্ক্রিয় করবেন।
বর্তমানে এলাকাটি কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রয়েছে। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনী না আসা পর্যন্ত স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

