সংসদে জনজীবনের সংকট নিয়ে আলোচনার বদলে অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেন, তেলের দাম ও সাধারণ মানুষের কষ্ট নিয়ে কথা বলা এখন জরুরি।
জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সংসদে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংকট ও কষ্টের কথা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। রবিবার (৫ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুতে সংসদে মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে, যা জনগণের জন্য কাম্য নয়।
সংসদ ও জনজীবনের সংকট
আলোচনা সভায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বর্তমানে সংসদে ‘জুলাই সনদ’ কিংবা ‘গণভোট’ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেগুলোর কোনো শক্তিশালী আইনি ভিত্তি নেই। তিনি মনে করেন, মৌলিক বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে, তবে বর্তমান পার্লামেন্টের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় সব সংস্কার সম্ভব। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদে এসব তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই এবং তেলের দামের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো নিয়ে জোরালো আলোচনা করা বেশি প্রয়োজন।
প্রতীক ও সরকারের প্রতি সমর্থন
সরকারের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব ব্যক্ত করে জাপা নেতা বলেন, তাঁরা বর্তমান সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিতে চান এবং সব ধরনের গঠনমূলক কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করতে আগ্রহী। এছাড়া জাতীয় পার্টির দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’ প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তাঁরা দলীয় প্রতীক ‘লাঙ্গল’ ফিরে পাবেন বলে আশা করছেন।
প্রতিহিংসামুক্ত নতুন বাংলাদেশ
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও এনডিএফ-এর মুখপাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি তাঁর বক্তব্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের নতুন অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির চিরতরে অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই তাঁদের লক্ষ্য। একইসাথে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রমের তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নুসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না।

