কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ উপমহাদেশের সংগীত অঙ্গন। অভিভাবক হারানোর বেদনায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাংলাদেশের বরেণ্য শিল্পী রুনা লায়লা।
সংগীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের পর এবার পরপারে পাড়ি জমালেন তাঁর ছোট বোন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে। রোববার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা।
রুনা লায়লার হাহাকার ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া
আশা ভোঁসলের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রুনা লায়লা। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “২০২২ সালে লতা দিদি চলে গেলেন, আর আজ আশা দিদিও নেই। আমার মনে হচ্ছে, আমার পৃথিবীটাই আজ শূন্য হয়ে গেল। এমন শিল্পী এই পৃথিবীতে আর জন্মাবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দুই বোনই তাঁকে মেয়ের মতো স্নেহ করতেন এবং এই ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
শেষ কথা না বলার আক্ষেপ
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রুনা লায়লা বলেন, তাঁর সুর করা ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’ গানটির রেকর্ডিংয়ের সময় আশা ভোঁসলের সঙ্গে শেষ দেখা হয়েছিল। এরপর ফোনে যোগাযোগ থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে কথা বলার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কথা হয়নি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “আজ করব, কাল করব—এই ভাবনায় আর ফোন করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না। আগে জানলে এই আফসোসটা থাকত না।”
৯২ বছরে থামল সুরের যাত্রা
গত শনিবার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে মুম্বাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৯২ বছর বয়সী এই শিল্পী। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর প্রয়াণ ঘটে। ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হাজার হাজার গান উপহার দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে বিশ্ব সংগীতের একটি স্বর্ণালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। তাঁর অতুলনীয় কণ্ঠ ও সুরের জাদু যুগ যুগ ধরে সংগীতপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করে যাবে।

