ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি

ইরানে সামরিক আগ্রাসন এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, পেশী শক্তি কোনো সমাধান নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি সম্ভব।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সামরিক শক্তি ব্যবহার করে কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। রোববার (৮ মার্চ, ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বিশ্ব শক্তিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

সামরিক শক্তি বনাম কূটনৈতিক সমাধান

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং ই স্পষ্টভাবে বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা সামরিক শক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব আবারও ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এমন আদিম শাসনে ফিরে যেতে পারে না। সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় সংকট উত্তরণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন নতুন সংকটের জন্ম দেয়।

শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিরোধিতা

ইরানে কথিত ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ বা ‘রঙিন বিপ্লব’-এর চেষ্টার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এ ধরণের পদক্ষেপে স্থানীয় জনগণের কোনো সমর্থন নেই। ওয়াং ই মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার কেবল সেই অঞ্চলের মানুষেরই রয়েছে। বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত। ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানো আন্তর্জাতিক রাজনীতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মধ্যস্থতায় চীনের বিশেষ উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে চীন কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়। ওয়াং ই জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত কমাতে এবং বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করতে বেইজিং খুব শীঘ্রই একজন বিশেষ দূত পাঠাবে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব পক্ষের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কাউন্সিলের এক গোপন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় ধরণের সামরিক হামলা সত্ত্বেও ইরানের ক্ষমতা কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। চীনের এই অবস্থান এবং মধ্যস্থতার প্রস্তাব বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *