ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ১৮

ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আলবোরজ প্রদেশের আবাসিক এলাকায় চালানো এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রত্যাখ্যান করার পর ইরানের ওপর ব্যাপক সামরিক আক্রমণ শুরু করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) ইরানের আলবোরজ প্রদেশের আবাসিক এলাকায় পরিচালিত এই যৌথ বিমান হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া পশ্চিম ইরানের একটি বিমানবন্দরেও বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে।

আবাসিক এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহত

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে আলবোরজ প্রদেশের একটি জনবহুল এলাকায় মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়। আলবোরজ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এই হামলায় আরও অন্তত ২৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালাচ্ছেন, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু

আবাসিক এলাকা ছাড়াও পশ্চিম ইরানের খোরামাবাদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরটির অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বর্তমানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছে। রাতের আঁধারে চালানো এসব হামলায় দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা দুই ডজন ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যম।

রেড ক্রিসেন্টের নিন্দা ও ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ

ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, আজ দেশজুড়ে অন্তত ১৭টি বেসামরিক এলাকায় মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রতিরক্ষাহীন বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর কোনো বৈধ কারণ থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী এটি স্পষ্টত একটি যুদ্ধাপরাধ।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম তেহরান ‘অন্যায্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পরপরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই সরাসরি সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *