আগামী ১২ মার্চ বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এর আগেই সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন নোয়াখালীর দুই সিনিয়র নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক ও বরকত উল্লাহ বুলু।
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। নতুন সরকারের যাত্রালগ্নে এখন সবার নজর সংসদীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দিকে। বিশেষ করে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সরকারদলীয় চিফ হুইপ পদে কারা আসছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, চিফ হুইপ পদের দৌড়ে এখন পর্যন্ত নোয়াখালীর দুই বর্ষীয়ান নেতার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।
চিফ হুইপ পদে আলোচনায় অভিজ্ঞ জয়নুল আবদিন ফারুক
নোয়াখালী-২ আসন থেকে ৬ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক চিফ হুইপ পদের প্রধান দাবিদার হিসেবে আলোচনায় আছেন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বিরোধী দলের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি এবং সংসদের ভেতরের শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে এই পদের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। দলের হাইকমান্ডও অভিজ্ঞতার বিচারে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
দৌড়ে আছেন বরকত উল্লাহ বুলুও
অন্যদিকে, আলোচনায় পিছিয়ে নেই নোয়াখালী-৩ আসনের ৫ বারের সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু। ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের সময় তিনি সফলভাবে বাণিজ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারের নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর স্থান পাওয়া নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ এই নেতাকে সরকারদলীয় চিফ হুইপের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হতে পারে।
সংসদের প্রস্তুতি ও মন্ত্রিসভার চিত্র
গেল ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই সংসদীয় পদগুলো নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অধীনে বর্তমানে ২৫ জন মন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ১০ জন উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন। এখন ১২ মার্চের অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদীয় দল গোছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চিফ হুইপ নিয়োগের পাশাপাশি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদেও দলটির সিনিয়র কয়েক নেতার নাম নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
চিফ হুইপ পদটি সংসদের ভেতরে সরকারি দলের শৃঙ্খলারক্ষী হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নোয়াখালীর দুই সিনিয়র নেতার মধ্যে শেষ পর্যন্ত কার ওপর দল আস্থা রাখে, তা দেখার জন্য অধিবেশন শুরুর আগে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

