গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা জানানো এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ। ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও বৈষম্য বন্ধে ঐতিহাসিক পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
বাংলাদেশে গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ এবং তা প্রকাশ করার অনৈতিক চর্চা বন্ধে এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এই রায়ের ফলে এখন থেকে কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা চিকিৎসক গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করতে পারবেন না।
রায়ের মূল ভিত্তি ও পর্যবেক্ষণ
আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছে যে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা স্পষ্টত নারীর প্রতি বৈষম্য। এটি কেবল সামাজিক ভারসাম্যই নষ্ট করে না, বরং কন্যাশিশু হত্যার মতো ভয়াবহ প্রবণতাকে উসকে দেয়। বিচারকদের মতে, এ ধরনের চর্চা দেশের সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নারীর মর্যাদা, সমতা এবং জীবনের অধিকারের পরিপন্থি। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদেরও লঙ্ঘন।
কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেছে, দেশে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার অভাব ছিল। রায়ে বলা হয়, শুধু নীতিমালা বা গাইডলাইন প্রণয়ন করে এই অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এ বিষয়ে কঠোর আইন থাকার উদাহরণ টেনে আদালত বাংলাদেশেও এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলেছে।
ইকোর্ট এই নির্দেশনাকে ‘কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এর অর্থ হলো, ভবিষ্যতে এই রায়ের বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতির বিষয়টি আদালত নিজেই নিয়মিত তদারকি করতে পারবেন।

