চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: জামায়াত নেতার ভাই নিহত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার হাসাদহ বাজারে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে গুরুতর আহত হাফিজুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত হাফিজুর রহমান জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক এবং বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ভাই।

পূর্ব শত্রুতার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরদিন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসানকে মারধরের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার জেরে শনিবার রাতে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের ভাতিজা মাহফুজুর রহমান হাসাদহ বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদী হাসান ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে মারধর করেন। এই খবর পেয়ে মফিজুর ও তাঁর ভাই হাফিজুর রহমান লোকবল নিয়ে বাজারে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

হতাহতের বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তাঁর ভাই হাফিজুর রহমানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁদের ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে হাফিজুর রহমান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বর্তমানে মফিজুর রহমান ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশের তৎপরতা ও আইনগত ব্যবস্থা

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ারুল কবীর জানান, এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহত হাফিজুর রহমানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক এই সংঘাতের পর জীবননগর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *