বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে থাকার একদিন পর কুমিল্লার লাকসাম থেকে তাকে উদ্ধার ও গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গ্রেফতার ও মামলার প্রেক্ষাপট
শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি জানান, জিসান প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। একজন ভুক্তভোগী নারী বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ এনে জিসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শিবিরের সাংগঠনিক অবস্থান
জিসান প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই ঘটনার পর সংগঠন থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য
বিষয়টি নিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, তারা জিসানের সাথে সরাসরি দেখা করতে পারেননি। তিনি বলেন, এটি তার একান্তই ব্যক্তিগত অপরাধ, যার দায় কোনোভাবেই সংগঠন নেবে না। তবে তারা ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন।
রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার সংগঠনের ওপর বর্তায় কি না, তা নিয়ে জনমনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

