আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর চাপানো ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত জানায়। এর বিনিময়ে ভারত একটি বড় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি এখন থেকে রাশিয়া থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেল আমদানি বন্ধ রাখবে। রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জোরালো করতেই ট্রাম্প এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ মার্কিন শুল্কের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এলো।
দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য অস্থিরতা কাটাতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আলোচনা শুরু করেছিল ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ট্রাম্প এই সমঝোতায় সম্মত হন। শনিবার ভোরে দুই দেশের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন বাজারে ভারতের বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেল। বিশেষ করে ওষুধ, হিরা ও বিমানের যন্ত্রাংশের মতো পণ্যগুলোর ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক সরিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই চুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত-মার্কিন এই বাণিজ্যিক সমঝোতা দেশের কৃষক, ক্ষুদ্র শিল্পপতি ও মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন যুগের সূচনা করবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল না কেনার প্রতিশ্রুতি ভারতের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা এখন বিশ্ববাজারে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকবেন। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সম্পর্ক ত্যাগ করার বিনিময়ে আমেরিকার এই বড় ছাড় বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটকে নতুন করে সাজিয়ে দিচ্ছে।

