লেবাননে হামলার প্রতিবাদে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে আবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই হুমকির মুখে পড়েছে সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি।

ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পার হতে না হতেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি। লেবাননে ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেল থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটিতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

লেবাননে ইসরাইলি হামলা ও প্রাণহানি

বুধবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আশা করা হয়েছিল পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এদিন লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ। লেবাননে এই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞকে যুদ্ধবিরতির শর্তের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছে ইরান।

হরমুজ প্রণালিতে স্থবিরতা

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এবং সরকারি সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে যে, ইসরাইলি হামলার পরই হরমুজ প্রণালি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় তেহরান। বুধবার সকালে ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি ট্যাংকার এই জলপথটি পার হতে পারলেও, বিকেলে হামলার খবর আসার পর বাকি সব ট্যাংকারের চলাচল স্থগিত করা হয়। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই পথটি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হুমকির মুখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি

ইরানের ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননসহ পুরো ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’-এর ওপর হামলা বন্ধ রাখা। কিন্তু ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তাদের যুদ্ধবিরতি কেবল ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে কার্যকর, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। ফারস নিউজের মতে, ইরান এখন ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে পাল্টা প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শান্তির যে ক্ষীণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, ইসরাইলি হামলা এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া তা নস্যাৎ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *