শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যা করে লাশ ৬ টুকরো করলেন স্ত্রী

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীকে হত্যার পর লাশ ৬ টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ফ্রিজে মাংস লুকাতে গিয়ে হাতেনাতে আটক হন তিনি।

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরো করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর টানা তিন দিন ধরে হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রাম এবং ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গত শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) রাতে অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা আক্তারকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।

নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের চেষ্টা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জিয়া সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালীন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পিরোজপুরের আসমা আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। সম্প্রতি দেশে ফিরে চন্দ্রপুর এলাকায় তারা একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ তীব্র আকার ধারণ করে। গত ১২ মে রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা তার স্বামী জিয়ার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়ার মৃত্যু হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসমা একটি চাকুর সাহায্যে জিয়ার মরদেহ ছয় টুকরো করেন এবং হাড় থেকে মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখেন।

যেভাবে ধরা পড়লেন আসমা

তিন দিন লাশ ঘরে লুকিয়ে রাখার পর শুক্রবার রাতে আসমা লাশের বিভিন্ন অংশ অটোরিকশা যোগে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন। এর মধ্যে কিছু অংশ নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীরে এবং মাথার অংশ পৌরসভার বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুরে ফেলে দেন। তবে অবশিষ্টাংশ ও মাংসের টুকরোগুলো তিনি শহরের উত্তর পালং এলাকার একটি পুরোনো ভাড়া বাসার বাসিন্দার ফ্রিজে রাখতে যান। এ সময় সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের গভীর সন্দেহ হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে আসমাকে হাতেনাতে আটক করে।

অপরাধ স্বীকার ও পুলিশের বক্তব্য

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার নিজের অপরাধ অকপটে স্বীকার করেছেন। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, আসমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিহতের খণ্ডিত হাত, পা, মাথা ও হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত জারি রয়েছে।

এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড পুরো শরীয়তপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রবাস থেকে ফিরে এসে নিজ স্ত্রীর হাতে এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় নিহতের পরিবারে এখন শোকের ছায়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *