এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে আজ সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। জয় দিয়ে এক বছরের সফল পথচলার ইতি টানতে মরিয়া কাবরেরার শিষ্যরা।
দেশের ফুটবলে গত একটি বছর ছিল পরিবর্তনের ও প্রাপ্তির। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিতে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ আজ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হচ্ছে। সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে। বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেলেও, জয় দিয়ে এই দীর্ঘ সফরের ‘চক্রপূরণ’ করতে চায় জামাল ভূঁইয়ারা।
এক বছরের জয়গান ও শেষ পরীক্ষা
গত বছরের ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যে ‘নতুন’ বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটি সেই যাত্রার এক বছর পূর্ণ করছে। এই সময়ে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়েছে এবং হংকংয়ের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে ড্র করেছে। যদিও বাছাইপর্বের চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন আগেই শেষ হয়েছে, তবুও আজকের ম্যাচটি কাবরেরার দলের কাছে সম্মান ও রেকর্ড গড়ার লড়াই। ৫ ম্যাচে ১ জয় ও ২ ড্রয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ৫ পয়েন্ট।
জয়ের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী কাবরেরা
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা জানিয়েছেন, পয়েন্ট টেবিলে প্রত্যাশার চেয়ে কম পয়েন্ট পেলেও দলের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট। গত জুনে ঢাকায় সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হারলেও এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না তিনি। কোচের লক্ষ্য পরিষ্কার—৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া। এই জয় পেলে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আসরে দুটি জয়ের স্বাদ পাবে বাংলাদেশ।
ইতিহাসের হাতছানি ও র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব
আজকের ম্যাচে জয় মানেই ইতিহাস। এর আগে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ কখনোই ৮ পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া ‘হামজা যুগে’ বিদেশের মাটিতে এখনো জয়ের দেখা পায়নি লাল-সবুজরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১৮১) চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরকে (১৪৮) হারাতে পারলে র্যাঙ্কিংয়েও বড় লাফ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতে, ৩ পয়েন্ট পাওয়া হবে ফুটবলের জন্য এক বিশাল ইতিবাচক বার্তা।
বাছাইপর্বের শেষটা রাঙাতে পারলে সেটি হবে বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন জাগরণের এক সার্থক প্রতিফলন। পুরো জাতি আজ তাকিয়ে আছে সিঙ্গাপুরের কল্লাং স্টেডিয়ামের দিকে।

