হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে এখন থেকে ইরানি মুদ্রায় টোল দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির ডেপুটি স্পিকার। এই কৌশলগত জলপথ নিয়ে কোনো আপস হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। রোববার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) মেহের নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে এই জলপথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের জাতীয় মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল পরিশোধ করতে হবে।
রিয়ালে টোল আদায়ের নতুন পরিকল্পনা
ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবাই জানান, ইরানের পার্লামেন্টের ২৫০ জন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে এই টোল আদায়ের পরিকল্পনা সমর্থন করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই নৌপথের ওপর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান কোনো পক্ষের সাথেই কোনো ধরনের আপস করবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেল রপ্তানি বৃদ্ধি
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে ইরানের তেল রপ্তানি প্রতিদিন ১৬ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন হাজি বাবাই। তিনি বলেন, ইরানের তেল বাণিজ্য এখন কার্যত নিষেধাজ্ঞামুক্ত। ইরানি জাতি তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং অধিকার আদায়ের প্রশ্নে এক ইঞ্চিও পিছু হটবে না। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদেই ইরান এই প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
বৈশ্বিক প্রভাব ও মার্কিন তৎপরতা
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশচুম্বী। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই চড়া দাম আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং সেখানে দুটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। তবে ইরান তাদের জলসীমায় মার্কিন রণতরীর উপস্থিতির দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে এখন পুরো বিশ্বের নজর এই জলপথের দিকে।

