হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধের হুমকি ইরানের, বাড়ছে উত্তেজনা

মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হলে পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এই নৌপথ ব্যবহারের অনুমতি সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভরশীল।

মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি শর্তসাপেক্ষে খুলে দেওয়ার মাত্র একদিন পরেই ফের তা বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল, ২০২৬) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বার্তায় জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখে, তবে এই জলপথ আবারো বন্ধ করে দেওয়া হবে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অনড় অবস্থানের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই চরম বার্তা দিল তেহরান।

স্পিকার বাঘের গালিবাফের কড়া বার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন অবরোধ বহাল থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে কোন জাহাজ চলাচল করবে, তা সম্পূর্ণ ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।” ইরানের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা এই পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শর্ত ও নৌ-নিরাপত্তা

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে প্রণালিটি খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শত্রু শক্তি বা তাদের সামরিক জাহাজের জন্য এই নৌপথ ব্যবহারের কোনো অধিকার নেই। স্থলভাগের পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটলে বা লেবানন সংকটের প্রভাব পড়লে এই সিদ্ধান্ত যেকোনো সময় পরিবর্তন করা হতে পারে।

ট্রাম্পের দাবি ও বর্তমান বাস্তবতা

এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালি চিরতরে খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছিলেন, ইরানের সঙ্গে শতভাগ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর থাকবে। তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক জাহাজ (মার্কিন পতাকাবাহীসহ) পারাপারের অনুমতি পাবে, কিন্তু সামরিক যানের জন্য এই পথ নিষিদ্ধ থাকবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশের সরবরাহ রুট। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত লড়াই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *