হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ঢুকলে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই নৌপথে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক সামরিক অভিযানের ঘোষণার পরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী এই প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ওপর সরাসরি হামলা চালানো হবে। সোমবার (৪ মে, ২০২৬) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের কড়া বার্তা

ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে তাদের হাতে ন্যস্ত। বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো পরিস্থিতিতে এই জলপথে নৌযান চলাচলের জন্য নেওয়া যেকোনো উদ্যোগ অবশ্যই ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে হবে। সমন্বয় ছাড়া বিশেষ করে মার্কিন আগ্রাসী বাহিনী যদি এই অঞ্চলে পা রাখার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না তেহরান।

ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ও মার্কিনি পরিকল্পনা

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে যে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে আছে, সেগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এই উদ্ধার অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা ১৫ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার এবং শতাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেবে।

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথ

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়। তাই এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব বনাম যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার এই লড়াই কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত এড়াতে আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে দুই পক্ষই সামরিক শক্তি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *