২০২৬ বিশ্বকাপ: মেক্সিকোর আবেদন নাকচ, যুক্তরাষ্ট্রেই খেলতে হবে ইরানকে

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল ইরান। তবে ফিফা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই মাঠে নামতে হবে তাদের।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার যে আবেদন করেছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সোমবার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন ও ফিফার অবস্থান

ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তারা চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোর কোনো ভেন্যুতে তাদের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হোক। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ফিফা এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। ফিফার মতে, লজিস্টিক এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কারণে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা কার্যত অসম্ভব।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও ইরানের হুঁশিয়ারি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, নিরাপত্তার খাতিরে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়াই ভালো। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। এর জবাবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ সাফ জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাওয়ার ঝুঁকি নেবেন না। এমনকি দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীর কণ্ঠেও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার সুর শোনা গেছে।

‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রতিপক্ষ

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান ‘জি’ গ্রুপে জায়গা পেয়েছে। এই গ্রুপে তাদের অন্য তিন প্রতিপক্ষ হলো শক্তিশালী বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ড। ফিফার বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ইরানের সবকটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতির ছায়া নতুন কিছু নয়, তবে বিশ্বকাপের মতো আসরে ভেন্যু নিয়ে এমন অনড় অবস্থান বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *