জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি যুক্তি খণ্ডন শেষ হয়। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (CAV) রেখেছেন, যার অর্থ যেকোনো দিন এই মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
শুনানি ও যুক্তি খণ্ডন শেষ
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান ইনুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের স্বপক্ষে চূড়ান্ত যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও তার সহযোগীরা এসব অভিযোগের বিপরীতে নিজেদের যুক্তি পেশ করেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন ধার্য না করে বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন।
ইনুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৮ অভিযোগ
প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্যমতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করা হয়। গত ২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও আইনি লড়াই শেষে এখন চূড়ান্ত রায়ের প্রহর গুনছে দেশবাসী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমের মধ্যে হাসানুল হক ইনুর মামলাটি অন্যতম। এই রায়ের মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে বলে আশা করছেন প্রসিকিউশন ও সাধারণ মানুষ।

