ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় ট্রাম্পের হামলার হুমকি ‘অগ্রহণযোগ্য’: নিউজিল্যান্ড

ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। এই পদক্ষেপকে ‘অসহযোগিতামূলক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

ইরানের সাধারণ জনগণের ব্যবহার্য বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এই হুমকিকে ‘অসহযোগিতামূলক’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল, ২০২৬) রেডিও নিউজিল্যান্ডকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। লাক্সন স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

বেসামরিক স্থাপনা রক্ষার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন সাক্ষাৎকারে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যেন আর কোনোভাবেই ছড়িয়ে না পড়ে, সেটাই এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সপ্তাহান্তের এক ঘোষণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ব্রিজ, জলাধার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলার যে আল্টিমেটাম দিয়েছেন, তার কড়া সমালোচনা করে লাক্সন বলেন, “যেকোনো ধরনের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

কূটনৈতিক তৎপরতা ও ওয়াশিংটনকে বার্তা

নিউজিল্যান্ড মনে করে যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন না করে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই লক্ষ্যেই চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। লাক্সন জানান, সেই বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে যেন তারা দ্রুত এই সংঘাত নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জানমাল রক্ষা করা সব দেশের নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি মনে করিয়ে দেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ডের অবস্থান

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড যেভাবে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সমালোচনা করেছে, তা ওয়াশিংটনের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। প্রধানমন্ত্রী লাক্সন সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক জনগণের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে গঠনমূলক আলোচনা এখন সময়ের দাবি।

সূত্র মারফত জানা গেছে, নিউজিল্যান্ডের এই অবস্থান অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকেও মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে উৎসাহিত করতে পারে। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এই সমালোচনায় কান দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *