ইরানের সামরিক শক্তির পুনরুত্থান: ৯০ শতাংশ মিসাইল ঘাঁটি এখন সচল

বড় সব হামলা সামলে নিয়ে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, দেশটির ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এখন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

সাম্প্রতিক সময়ের বড় ধরনের সামরিক ধাক্কা ও হামলা সামলে নিয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোর অন্তত ৯০ শতাংশই বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল এবং যেকোনো সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের এই দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা বর্তমানে পেন্টাগন ও পশ্চিমা দেশগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

পেন্টাগনের বিস্ময় ও ইরানের কৌশল

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো এমনভাবে সাজিয়েছে যে, বড় ধরনের বিমান হামলাতেও এর মূল কাঠামোর খুব সামান্যই ক্ষতি হয়েছে। ‘ইমাদ’ ও ‘খেইবার শেকান’-এর মতো দূরপাল্লার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পাহাড়ের নিচে গভীর সুড়ঙ্গ বা তথাকথিত ‘মিসাইল সিটি’তে রাখা হয়েছে। এই ঘাঁটিগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত হওয়ায় যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।

দ্রুত মেরামত ও সুসংহত কমান্ড ব্যবস্থা

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধ্বংস হয়ে যাওয়া সামান্য কিছু অংশ ইরান অত্যন্ত দ্রুত মেরামত করে ফেলেছে। বর্তমানে তাদের সামরিক কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই দ্রুত সামরিক পুনরুদ্ধার মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য একটি বড় বার্তা।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা

মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান কেবল তাদের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেনি, বরং আগের হামলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের কৌশলগত অবস্থানেও বড় পরিবর্তন এনেছে। তেহরান বারবার বলে আসছে যে, তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। তবে এই দ্রুত পুনর্গঠন মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বাইরের তীব্র চাপ ও হামলা সত্ত্বেও ইরানের সামরিক কৌশলে কোনো শিথিলতা আসেনি। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *