ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও হামাস নেতাদের ওপর ইইউ-র নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ও উগ্রবাদ ছড়ানোর দায়ে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং হামাস নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতায় জড়িত ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের শীর্ষ নেতাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই ‘নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ’ নিয়ে ঐতিহাসিক ঐকমত্যে পৌঁছান।

হাঙ্গেরিতে ক্ষমতার পালাবদলে কাটল জট

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার দায়ে ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর ইইউ-র এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ছিল। এতদিন ইইউভুক্ত দেশ হাঙ্গেরির সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই উদ্যোগে বাধা দিয়ে আসছিলেন। তবে দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার দায়িত্ব নেওয়ায় এই কূটনৈতিক জটিলতা কেটেছে। ইইউ-র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নের এটিই উপযুক্ত সময়।

তিন ব্যক্তি ও চার সংগঠনের ওপর কড়াকড়ি

প্রাথমিকভাবে পশ্চিম তীরে উগ্রবাদ ও সহিংস উপনিবেশ স্থাপন প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজন ইসরাইলি নাগরিক এবং বসতি স্থাপনকারী চারটি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। যদিও কৌশলগত কারণে তাদের নাম এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পশ্চিম তীরে চরমপন্থা ও অসহনীয় সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সাথে হামাস নেতাদের বিরুদ্ধেও নতুন করে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানান তিনি।

ইসরাইলের তীব্র নিন্দা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই উদ্যোগের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসরাইল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার একে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক মতাদর্শপ্রসূত’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, ইসরাইলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই পদক্ষেপকে ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ হিসেবে অভিহিত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করেন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইইউ-র এই নতুন নিষেধাজ্ঞা পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এর ফলে ইসরাইলের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন কোনো টানাপোড়েনের মুখে পড়ে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *