ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্কের আদালত।
ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে ‘অমানবিক অত্যাচার’ ও ‘গণহত্যা’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। শুধু নিন্দাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে, এবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে এরদোয়ান বিশ্ববাসীকে এই কঠোর বার্তার কথা জানান।
লিবিয়া-কারাবাখের উদাহরণ টেনে হুঁশিয়ারি
ইন্টারন্যাশনাল এশিয়া-পলিটিক্যাল পার্টিস কনফারেন্স-এ দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ইসরায়েলের এই রক্তক্ষয়ী নেটওয়ার্ক কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নারী ও শিশুদের হত্যা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও লেবাননের ১২ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এরদোয়ান সরাসরি বলেন, “আমরা যেভাবে এক সময় নাগার্নো কারাবাখ বা লিবিয়ায় গিয়েছিলাম, প্রয়োজনে তাদের (ইসরায়েলের) ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিতে পারি।”
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের এই চরম অবনতির মধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে তুর্কি আদালত। গাজা ফ্লোটিলায় হামলার সূত্র ধরে দায়ের করা এক মামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে।
ইসরায়েলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
এরদোয়ানের এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির মন্ত্রী আমিচেয় এলিয়াহু তুর্কি প্রেসিডেন্টকে ‘ভণ্ড’ ও ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দিয়ে তুরস্কের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, যুদ্ধের ভয়াবহতায় ফিলিস্তিনে নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় সেখানে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৫৫ জনে পৌঁছেছে।
এরদোয়ানের এই সরাসরি সামরিক হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংঘাত আরও বড় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

