ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ বুধবারও সূচকের বড় পতন হয়েছে। লেনদেন কমে নেমে এসেছে ১০০০ কোটির নিচে। তবে দরবৃদ্ধির শীর্ষে চমক দেখিয়েছে নাহি অ্যালুমিনিয়াম ও এবি ব্যাংক।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবারও (১৮ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইতে প্রধান সূচকের বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা টানা তৃতীয় দিনে গড়াল। সূচকের পাশাপাশি আজ কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণও। তবে বাজারের এই অস্থির অবস্থার মধ্যেও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নাহি অ্যালুমিনিয়াম ও এবি ব্যাংক।
চকের অবস্থান ও বাজার বিশ্লেষণ
বুধবার লেনদেন শেষে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স (DSEX) আগের দিনের তুলনায় ৫১.৪৫ পয়েন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৯.১৩ পয়েন্টে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক পতনে সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হলেও তা এখনও ৫ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার ওপরে অবস্থান করছে।
অন্যান্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস (DSES) বা শরিয়াহ সূচক আজ ১১.৮৮ পয়েন্ট বা ১.০৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ১০৫.২৮ পয়েন্টে নেমেছে। একইভাবে বড় মূলধনী ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচকও আজ নেতিবাচক ধারায় ছিল। সূচকটি ১৬.১৯ পয়েন্ট বা ০.৭৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১০.৪২ পয়েন্টে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং বড় মূলধনী শেয়ারের দরপতনই সূচকের এই পতনের প্রধান কারণ।
লেনদেনের চিত্র: ১০০০ কোটির নিচে নেমেছে টার্নওভার
আজ ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণে বড় ঘাটতি দেখা গেছে। দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অথচ গতকাল মঙ্গলবারও লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২২৩ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ২৮৭ কোটি টাকা। বাজারে ক্রেতাদের তুলনায় বিক্রেতাদের আধিপত্য বেশি থাকায় এবং নতুন বিনিয়োগে অনেকের অনাগ্রহের কারণে লেনদেনের এই ভাটা পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দরবৃদ্ধির শীর্ষে যারা: নাহি অ্যালুমিনিয়াম ও এবি ব্যাংকের চমক
পুরো বাজার যখন দরপতনের কবলে, তখন কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আজকের লেনদেনে দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে নাহি অ্যালুমিনিয়াম ও এবি ব্যাংক। এবি ব্যাংকের শেয়ারের দাম আজ ১৯.৪০ টাকা থেকে বেড়ে ২১.৩০ টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৯.৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি।
দরবৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিবিএস। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৯.২৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.৬০ টাকায়। এছাড়া প্রগতি লাইফের শেয়ারের দাম ৮.৫৮ শতাংশ বেড়ে ২৫৯.৩০ টাকা এবং ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের দাম ৭.৯১ শতাংশ বেড়ে ৫৫.৯০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। পঞ্চম স্থানে থাকা পপুলার লাইফের শেয়ারের দর আজ ৭.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার চিত্র: হারের পাল্লাই ভারী
আজকের লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৮২টির। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮৬টি কোম্পানির শেয়ারের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। অর্থাৎ প্রায় ৭৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার আজ দর হারিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টানা তিন দিনের এই পতন বাজারকে কোনো নতুন সংশোধনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে বাজারের ভিত্তি শক্তিশালী রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

