ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও ৭ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তের দাবিতে রাজপথে নেমেছে হাজার হাজার মানুষ। তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ।
ইসরায়েলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ চরমে পৌঁছেছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানী তেল আবিবসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি—বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার বিচারিক তদন্তের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কমিশন গঠন করা।
প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভের জোয়ার
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র ছিল তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ার। সেখানে মোতায়েন করা বিপুল সংখ্যক পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন। গাজায় আটকে থাকা জিম্মিদের মুক্ত করতে সরকারের ব্যর্থতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা। এছাড়া জেরুজালেমে শত শত এবং হাইফার হোরেভ সেন্টারে প্রায় এক হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন।
তদন্ত কমিশন নিয়ে নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান
দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ‘মুভমেন্ট ফর কোয়ালিটি গভর্নমেন্ট’ এবং বেশ কয়েকটি সুশীল সমাজ গোষ্ঠী এই আন্দোলনের ডাক দেয়। তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা নিয়ে কোনো রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে রাজি হননি। তার দাবি, এমন কোনো কমিশন গঠন করা হলে তা তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করতে পারে। সরকারের এই অনমনীয় অবস্থান আন্দোলনকারীদের আরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও চাপের মুখে রয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলমান রয়েছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ এই অস্থিতিশীলতা নেতানিয়াহু সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিম্মি মুক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায় নিয়ে সাধারণ মানুষের এই আন্দোলন দেশটির রাজনীতিতে নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

