‘পছন্দের লোক বসানোই স্বাভাবিক নিয়ম’: পদ হারিয়ে তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানালেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। বিষয়টিকে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেবে—এটিই চিরাচরিত এবং স্বাভাবিক নিয়ম। এখানে অবাক হওয়ার বা অসন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই।

নতুন উত্তরসূরিকে অভিনন্দন

আজ সকালেই তাজুল ইসলামের পরিবর্তে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এই সিদ্ধান্ত আসার পর তাজুল ইসলাম তাঁর উত্তরসূরিকে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় তিনি যে কাজগুলো শুরু করেছিলেন, নতুন চিফ প্রসিকিউটর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবেন।

ধ্বংসস্তূপ থেকে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন

দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে তাজুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যখন তিনি দায়িত্ব নেন, তখন ট্রাইব্যুনালের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। তিনি বলেন, “তৎকালীন প্রসিকিউশনের সদস্যরা সবকিছু এলোমেলো রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনটি ছিল পরিত্যক্ত, নথিপত্র ও বইপত্র বৃষ্টিতে ভিজছিল। একটি টিনশেড ঘর থেকে আমাদের কাজ শুরু করতে হয়েছিল।” শূন্য থেকে সবকিছু গুছিয়ে বিচার কাজ শুরুর উপযোগী করার কৃতিত্ব তিনি তাঁর টিমকে দেন।

পদত্যাগ কেন করলেন না?

সরকার পরিবর্তনের পর নিজেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, গতকালই সরকার তাঁকে পরিবর্তনের একটি আভাস দিয়েছিল। তখন তিনি নিজে থেকে পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে ‘ন্যাচারাল রিপ্লেসমেন্ট’ বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কথা বলা হয়। তাজুল ইসলাম মনে করেন, তাঁর পদত্যাগ ভিন্ন কোনো নেতিবাচক বার্তা দিতে পারত, তাই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমের নেতৃত্বে ছিলেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির এই নেতা। তাঁর অধীনেই গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *