আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের অর্থায়নে কোনো প্রশিক্ষণ বা সেমিনারে অংশ নিতে পারবেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা।
আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সরকারি বা বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে দেশে-বিদেশে আয়োজিত কোনো প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা কর্মশালায় অংশ নিতে পারবেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। বুধবার (১৩ মে, ২০২৬) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় যা থাকছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পণ্য বা সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রশিক্ষণ বা চুক্তিবহির্ভূত সেমিনারে অংশ নিতে পারবেন না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বন্ধ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বক্তা বা প্রশিক্ষক হওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত
নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে দেশে অনুষ্ঠিত কোনো সভা বা সেমিনারে বক্তা কিংবা প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীরা। তবে এ ক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো ধরনের সম্মানী বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না।
মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অর্থায়নে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ছিল। অনেক ক্ষেত্রে একে ‘অনৈতিক সুবিধা’ হিসেবে দেখা হতো। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

