শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আগামীকাল মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ আফ্রিকান জায়ান্ট আলজেরিয়া।
ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে কোনো দল পরপর দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, এবার সেই ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই লিওনেল মেসির নেতৃত্বে লড়াই করবে স্কালোনির শিষ্যরা। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা।
উৎসব ও স্মৃতির মিশেল
কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের ৭৬ হাজার দর্শকের ধারণক্ষমতা থাকলেও আর্জেন্টিনার ভক্তদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শহরে। প্রয়াত সমর্থক তুলা মার্তিনেজের ঐতিহ্যবাহী ঢোলটি এবারও স্টেডিয়ামে থাকবে, যা সব সমর্থককে এক সুতোয় গেঁথে রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেয়ালে দেয়ালে ম্যারাডোনা ও মেসির ছবি আঁকা—যেন এক উৎসবের আমেজ।
আলজেরিয়ার চ্যালেঞ্জ
প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে ফিরেছে। ২০১৪ সালের পর এটি তাদের বিশ্বকাপ প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৮তম স্থানে থাকা আফ্রিকান দলটি বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে। ভ্লাদিমির পেতকোভিচের অধীনে খেলা আলজেরিয়া সর্বশেষ ছয় ম্যাচে মাত্র দুটি গোল হজম করেছে এবং নেদারল্যান্ডসকে হারানোর মতো সক্ষমতা দেখিয়েছে। তারা কেবল শারীরিক শক্তিতেই নয়, কৌশলেও বেশ পারদর্শী।
আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ও রণকৌশল
৩৬ বছর বয়সী লিওনেল মেসি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলছেন, যা একটি বিশ্বরেকর্ড। হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে তিনি মাঠে ফিরছেন। রক্ষণের সমস্যার কারণে কোচ স্কালোনি একাধিক ডিফেন্সিভ ফরমেশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক আলিস্টার ও দি পলের ত্রয়ী আর্জেন্টিনার বড় ভরসা। আর আক্রমণভাগে মেসির সঙ্গী হিসেবে লাউতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদাকে দেখা যেতে পারে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হার দিয়ে শুরু করেও আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই রূপকথার পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করাটা মেসিদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

