বেইজিংয়ে ট্রাম্প-জিনপিং বৈঠক: শক্তিশালী সম্পর্কের আশা ট্রাম্পের

দীর্ঘ বিরতির পর চীন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রধান শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন মোড় আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শুরুর আগে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।

রাজকীয় অভ্যর্থনা ও ঐতিহাসিক সফর

২০১৭ সালের পর এটিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম চীন সফর। গত বুধবার বেইজিং পৌঁছালে তাকে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। আজ বৃহস্পতিবার গ্রেট হলে পৌঁছালে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বর্ণাঢ্য রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত ‘দ্য স্টার-স্প্যাংলড ব্যানার’ বাজার সময় ট্রাম্পকে স্যালুট জানাতে দেখা যায়, আর পাশেই লাল ও সোনালি রঙের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

শক্তিশালী প্রতিনিধিদল ও বন্ধুত্বের বার্তা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছে আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় বড় কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এক শক্তিশালী প্রতিনিধিদল। বৈঠক শুরুর প্রাক্কালে ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে বলেন, “আপনার বন্ধু হতে পারা আমার জন্য সম্মানের বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।” এই শীর্ষ বৈঠক নিয়ে পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে।

বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এই গ্রেট হলে দুই নেতার আলোচনা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *